Showing all 8 results

Show sidebar
-24%
Close

অবিশ্বাসী কাঠগড়ায় – Obishwasi Kathgoray

417 317
0 out of 5

সম্পাদকের চোখে 'অবিশ্বাসী কাঠগড়ায়'
— মুহাম্মাদ জুবায়ের
.
'পাণ্ডুলিপি পড়তে গিয়ে দুটো কারণে বিস্মিত হই। প্রথমটা হলো মুগ্ধতাজনিত বিস্ময়। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল–আরে এটা তো সেই ধারার বই যার জন্য অ্যাদ্দিন ধরে অপেক্ষা করেছি! আর দ্বিতীয় কারণ হলেন লেখক নিজে। রাফান ভাই পেশায় চিকিৎসক। উদয়াস্ত খাটছেন রোগীদের পেছনে, রাতের পর রাত জাগছেন, এতটুকু ফুরসৎ নেই। ওনার সাথে যখন পাণ্ডুলিপি নিয়ে আলোচনায় বসেছি তখনও একটু পরপর ফোন আসছে হাসপাতাল থেকে। এমন আদ্যন্ত ব্যস্ত একজন মানুষ এত তথ্যবহুল আর গভীর আলোচনার পৌনে তিনশো পৃষ্ঠার প্রমাণ সাইজের একটা বই লিখে ফেলেছেন, বিশ্বাস করা কঠিন। আসলে আল্লাহ্‌ যাকে দিয়ে চান তাকে দিয়ে করান।
.
বইটাকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলছি এজন্যই যে, এটা টিপিক্যাল ‘নাস্তিকদের আপত্তির জবাব’ টাইপ লেখা না। এখানে লেখক হুমায়ূন আজাদদের মনস্তত্ত্ব, তাদের আদর্শের স্ববিরোধিতা এবং তারা অবিশ্বাসের মোড়কে যে সংকীর্ণ বিশ্বাসগুলো লালন করে সেগুলোকে দর্শন ও বস্তুবাদী বিজ্ঞানের আলোকে উন্মোচন করেছেন। বইটার গুরুত্ব আরো বেড়েছে একারণে যে লেখক মুসলিম স্কলারদের থেকে খুব বেশি সাহায্য না নিয়ে বরং হুমায়ূন আজাদরা যে পশ্চিমা দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিকদের বক্তব্যকে প্রবাদতুল্যজ্ঞান করে, সেই দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিকদের বক্তব্য দিয়েই আজাদদের চিন্তার দৈন্যকে স্পষ্ট করেছেন।"
.
বই: অবিশ্বাসী কাঠগড়ায়
লেখক: রাফান আহমেদ

-3%
Close

অবিশ্বাসের বিভ্রাট – Obishwaser Bivrat

150 145
0 out of 5

বিশ্বাস
প্রতিটি মানুষেরই অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। বিশ্বাস ছাড়া কোনো সুস্থ মানুষই
পাওয়া যাবে না। অনেক মানুষ, হরেক রকম বিশ্বাস। কিন্তু সকল বিশ্বাসই সঠিক
বিশ্বাস নয়, হতে পারে না। কেবলমাত্র একটি বিশ্বাসই শ্বাশ্বত ও নির্ভুল হতে
পারে। এক শ্বাশ্বত, সঠিক ও নিখাঁদ বিশ্বাসের স্বচ্ছ জলধারা আজ ছায়াচ্ছন্ন
অজস্র অবিশ্বাসের কালো আঁধারে। ফলে সেই বিশুদ্ধ জলধারাকে আজ দেখতে হচ্ছে
অবিশ্বাসের রঙে, ঢঙে। ছদ্মবেশে হরেক রকম বিশ্বাস
নামের কু-বিশ্বাসে বিশ্বাসের গতর জড়িয়ে আছে। বিশ্বাসের চারার সাথে লেপ্টে
আছে কিছু অবিশ্বাসের আগাছা। সেই নিখাঁদ বিশ্বাসের স্বচ্ছ প্রস্রবণ থেকে
অবিশ্বাসের অপছায়াগুলোকে সরিয়ে দেওয়ার একটি ছোট্ট প্রয়াস ‘অবিশ্বাসের
বিভ্রাট’। বিশ্বাস শরীরের রক্তের মত, রক্ত মানুষের প্রাণ সচল রাখে, সেই
রক্তের সাথে যখন বিষাক্ত পদার্থ মিলিত হয়ে যায় তখন রক্তকে শুদ্ধ করা জরুরী
হয়ে পড়ে, তা না হলে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পতিত হয়। রক্তকে বিশুদ্ধ করতে
হলে রক্তের সাথে বয়ে বেড়ানো দূষণকে বের করে দিতে হয়। একইভাবে বিশ্বাসকে
খাঁটি করতে হলেও বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাস নাম নিয়ে ঘাপটি মেরে থাকা মলিন
অবিশ্বাসগুলোও চিনে নিতে হবে। যাতে করে শ্বাশ্বত বিশ্বাসের বিমল জলধারা
থেকে সকল অবিশ্বাসের আভাস দূর হয়ে যায়, কোনো মুখোশধারী আগাছা এগিয়ে এসে
বিশ্বাসকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে না পারে, বিশ্বাস যেন তার অমলিন, নির্মল আর
আবিল রুপে ফিরে আসতে পারে। যেই বিশ্বাস মানুষের মুক্তির একমাত্র রাজপথ। আজ
বিশ্বাসের সেই আগাছাগুলোকে চিনে দেওয়াই আমাদের ইচ্ছা ও লক্ষ্য।

ডাবল স্ট্যান্ডার্ড – Double Standard

260 200
0 out of 5

বই : ডাবল স্ট্যান্ডার্ড
লেখক : ডা. শামসুল আরেফীন
প্রকাশনী : মাকতাবাতুল আযহার
প্রকাশকাল : আগস্ট ১৭
মুদ্রিত মূল্য : ২৬০
পৃষ্ঠা : ১৯২

পর্যালোচনা :
পৃথিবী এগুচ্ছে। দুর্দান্ত গতিতে। পিছনের পৃথিবীর দিকে ফিরলে, বর্তমান
পৃথিবীর দিকে তাকালে এবং আগামীর পৃথিবী কল্পনা করলে যে জিনিসটা স্পষ্ট দেখা
যায়, তা হচ্ছে পৃথিবীর পরিবর্তন।
একসময় মানুষ যা ভাবত না, আজ তা বাস্তবায়িত! অতীতের পৃথিবী যা চিন্তা করতেও পারত না, আজ তা প্রতিফলিত!
এই যে পৃথিবীর এই উত্থান-অবক্ষয়, সমৃদ্ধি-পরিবর্তন তার মধ্যে রয়েছে
বিজ্ঞানের বিবর্তন। বিজ্ঞানের এই কল্যাণ অনস্বীকার্য এবং অপরিহার্যও বটে।
কিন্তু বিজ্ঞানের এই উত্‍কর্ষে ও তার উত্‍কৃষ্টতায় মুজ্জমান হয়ে একটি
ক্ষুদ্র মহল নিজের অস্তিত্বকে আজ অস্বীকার করতে বসেছে। ওরা বিজ্ঞানকে
সর্বেসর্বা বানিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রককে অস্বীকার করছে।
বিজ্ঞান বিজ্ঞান কপচিয়ে স্রষ্টাকে সৃষ্টির মাঝে গুলিয়ে ফেলছে। বিজ্ঞানের
বুলি আওড়িয়ে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে বিগ্রহ করছে। বিজ্ঞানের ভিত্তিতে তারা দাবি
করছে অদৃশ্য বস্তুর কোনো অস্তিত্ব নেই। যার অস্তিত্ব নেই তাকে বিশ্বাস করা
অযৌক্তিক!
কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে মুখে মুখে এসব বললেও অসংখ্য অদৃশ্য বিষয়ে ওরা
পুরাদস্তুর বিশ্বাসী। অথচ ধর্মের ব্যাপারে ওরা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের
পেন্ডুলামে দোলে! গতকাল বিজ্ঞান যা বলেছে আজ কি তা পরিবর্তন করেনি?
অবশ্যই করেছে!
এমনকি অনেক বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থও হয়েছে। এটাই হচ্ছে বিজ্ঞানের
সীমাবদ্ধতা। সৃষ্টিকর্তার ব্যাখ্যা না দিতে পারাটাও বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার
স্বরূপ। তাহলে আজ বিজ্ঞান যা বলছে কাল কি তার বিবর্তন হতে পারে না?
অবশ্যই পারে!
দেড় হাজার বছর পূর্বে ইসলাম যা বলেছে বিজ্ঞান আজ তার সঙ্গে করমর্দন করছে।
তবুও যারা বিজ্ঞানকে ধর্মের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে, ধর্মের রীতি-নীতির
নিমিত্ত খুঁজে এমন কিছু মানুষের কিছু যুক্তি খণ্ডন করেই রচিত হয় `ডাবল
স্টান্ডার্ড`। ইসলামবিদ্বেষীদের উত্থাপিত কিছু আপত্তির তত্ত্বোদ্ঘাটন করেই
ডাবল স্ট্যান্ডার্ড রচিত হয়েছে। যারা ইসলাম ধর্মের খুঁত খুঁজে খুঁজে যুক্তি
খাড়া করাবার চেষ্টা করে, তাদের যুক্তির পিঠে যুক্তি এবং আঘাতের বদলে
চপেটাঘাত করেই 'ডাবল স্টান্ডার্ড'।
|
ইসলামের ইতিহাস নিয়ে যারা সন্দিগ্ধ, ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে সন্দিহান
এবং ইসলামি বিধি-নিষেধ নিয়ে সংশয়ে ভোগে তাদের সন্দেহ দূরীকরণে, তাদের সংশয়
নিরসনে একটি তথ্যবহুল বইয়ের নাম `ডাবল স্টান্ডার্ড`।
বইটি গল্পচ্ছলে লেখা। গল্পের বাঁকে বাঁকে লেখক নানান বিষয় তুলে ধরেছেন।
অবসান ঘটিয়েছেন বহুবিধ একচোখা যুক্তির। যার দরুন পাঠক তৃপ্তিভরেই পাঠ করতে
পারবে। বইটি যেমন তথ্যবহুল, তেমনই দলিল নির্ভুল । যুক্তিতে অকাট্য। তথ্য ও
উপত্তে নিঁখুত। ভাষায় প্রাঞ্জল। মর্মোদ্ঘাটনে সাবলীল। গল্পের প্লটগুলো তেমন
আকর্ষণীয় না হলেও সংলাপগুলো সুবিন্যস্ত। গল্প এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতাও 
নিয়মতান্ত্রিক।
সর্বোপরি পাঠক বইটি পড়লে ইসলামের উপর উত্থিত অনেক সন্দেহ, সংশয়ের বেড়াজাল
থেকে মুক্ত হতে পারবেন। সেই সঙ্গে বিশ্বাসের দেয়ালটা হবে দ্রঢিষ্ঠ।
* * *
আমি যে ফ্ল্যাটে আছি তার নিচ তলায় আগুন ধরেছে। আমি দেখিনি। অবিশ্বস্ত একজন থেকে খবর পেয়েই আমি বাঁচার উপায়ন্তর খুঁজছি। ছটফট করছি।
এই যে একটা শোনা কথার উপর আমি ছটফটানি শুরু করেছি, এরপরেও আমি কীভাবে অদেখা জিনিস বিশ্বাস করি না? 
একজন অবিশ্বাসীকে এভাবেই কিছু যুক্তি দিয়ে  বিশ্বাসের বিশ্বস্ত পথে ফিরানোর
একটি অনন্য কাহিনি নিয়ে বইয়ের না দেখে বিশ্বাস : মানবজন্মের স্বার্থকতা
গল্পটি।
|
দাসপ্রথা কী? কেন?
দাসপ্রথা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের উত্থাপিত কিছু যৌক্তিক দাবি এবং তার পাল্টা
জবাব পেতে লেখকের দাসপ্রথা : ঐশী বিধানের সৌন্দর্য গল্পটি পড়তে হবে।
গল্পটি পড়লে দাসপ্রথা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে। 
|
কোরআনে নারীকে শষ্যক্ষেত্র উপমা দেওয়ায় একটি নারীবাদী মহল মায়াকান্নায়
রোরুদ্যমান। অথচ ওরাই নারীদেরকে পণ্য বানিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়। তাদের যোজন যোজন
যুক্তিগুলো খণ্ডন করেই লেখকের শষ্যক্ষেত্র : সম্পত্তি না সম্পদ? গল্পটি।
ভার্সিটিপড়ুয়া একটি চাষির ছেলে কতো সুন্দরভাবে যুক্তিগুলো খণ্ডন করে
গল্পটিতে!
|
সমাধান কি মানবধর্মেই? নামের গল্পটিতে মানবধর্মের অন্তরালে ধর্মনিরপেক্ষতার
কিছু সাদা সভ্যতার কালো মুখোশ খসে পড়ে। সেই সঙ্গে গল্পটিতে জানা যাবে
মানবধর্মের সীমাবদ্ধতা ও ধর্মের সুশৃঙ্খলার স্বরূপ। 
|
ভূত, ভবিষ্যত ও বর্তমানের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের, প্রভিন্ন ধর্মের এবং
নানান বর্ণের মানুষ কীভাবে একত্ববাদে বিশ্বাসী তা জানতে হলে লেখকের
বিজ্ঞানকল্পকাহিনী : শাশ্বত একত্ব গল্পটি পড়তে হবে। মানুষপ্রদত্ত কিছু
ধর্মের শিকলে আবদ্ধ হয়েও মানুষ একত্ববাদকে কীভাবে বিশ্বাস করে তার
উত্‍কীর্ণ প্রতিফলন গল্পটিতে।
|
দক্ষিণহস্ত মালিকানা : একটি নারীবাদী বিধান, জিযিয়া : অমুসলিম নাগরিকের
দায়মুক্তি, শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ : ওদের স্বপ্ন আমাদের অর্জন, আরব সংস্কৃতি
মানবো কেন?, বনু কুরাইযার মৃত্যুদণ্ড ও বাংলাদেশের দণ্ডবিধি,
পরিপূর্ণ দাড়ি : জঙ্গল নয়, ছায়াবীথি শিরোনামে প্রভৃতি গল্পগুলোও শিক্ষণীয়।
প্রত্যেকটি গল্পই প্রশংসার অধিকার রাখে। বিজ্ঞানের ভিত্তিতেই ধর্মবিদ্বেষের
কিছু দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হয় গল্পগুলোতে। এগুলো পড়লে অবিশ্বাসীদের বিশ্বাস
জন্মাবে। বিশ্বাসীদের বিশ্বাস পাকাপোক্ত হবে। বিশ্বাসের শিকড় দৃঢ়মূল হবে। 
* * *
প্রতিক্রিয়া :
বইটা শুরু করতেই এক ধরনের ভালোলাগা আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ধর্মবিদ্বেষীদের
উত্থাপিত মোক্ষম মোক্ষম প্রশ্নগুলোর যথোপযুক্ত উত্তর পেয়ে বারবার
বিস্ময়াভিভূত হয়েছি। উদগ্রীব ও উত্‍কণ্ঠায় একবসায় শেষ করেছি বইটি। ইসলামের
প্রতি অনেক সন্দেহ, সংশয় দূর হয়েছে বইটি পড়ে। সেই দৃষ্টিতে বলা যায় বইটি
সবার জন্য পাঠ আবশ্যকীয়। আমি আস্তিক হই কিংবা নাস্তিক, মুমিন কিংবা মুশরিক,
আমারও বইটি পড়া উচিত। অন্তত সত্যকে জানার জন্য হলেও। সবমিলিয়ে বইটি
অনন্যসাধারণ। লেখক ড. শামসুল আরেফীন

জায়গায় জায়গায় বলেছেন `নতুন গল্প আসছে`। সেই নতুন গল্পগুলোর জন্য মুখিয়ে রইলাম।
-21%
Close
-17%
Close

প্রত্যাবর্তন – Protyaborton

300 250
0 out of 5

ও হ্যাঁ, মিউজিক ফিতনা থেকে কীভাবে বেরিয়ে এলাম? একটু একটু করে ডিলিট করতাম পছন্দের গানগুলো, সবশেষে ফোল্ডারে আর ১০/১২ টি গান ছিলো যেগুলো না থাকলেই নয়।

কোনো এক ইমোশনাল মোমেন্টে 'বিসমিল্লাহ ' বলে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে পুরোটা ফোল্ডার একবারে শিফট ডিলিট দিয়েছিলাম : 'ইয়া আল্লাহ' আপনি সাহায্য করুন, এই হারাম থেকে আমার বের হওয়ার ব্যবস্থা করুন।' একবারেই পারিনি, ধাপে ধাপে ট্যাপারিং ডোজে ছেড়েছি, বাংলা হিন্দি আধুনিক গান থেকে সামি ইউসুফ, মাহের জেইনের মিউজিক্যাল ইসলামিক, তা থেকে নন মিউজিক্যাল ভোক্যাল ইসলামিক নাশিদ, আর তারও পর মিশরি রশিদ, ইউসুফ এদঘুশ, তাউফিক সায়েগ, আবু হাফস, ফারহাত হাশমি কিংবা উমর হিশাম আল আরাবির মোহনীয় সুরের তিলাওয়াত : এরচে' সুন্দর সত্যিই আর নেই, বাকিটা জান্নাতে, ইন শা আল্লাহ।
..
প্রত্যাবর্তন বই থেকে কিছু অংশ....
লিখেছেন- বোন নিশাত তামমিম

-9%
Close

বিশ্বাসের বয়ান – Biswaser Boyan

220 200
0 out of 5

আমি কে? আমি এখানে কেন? আমার উদ্দেশ্য কি? আমার গন্তব্য কোথায়? বিশ্বাস কি করতেই হবে? বিশ্বাস কি শুধুই অন্ধ হয়? যুক্তি দিয়ে কি বিশ্বাসের শিকড়ে পৌছানো যায়? বিশ্বাসে কি মুক্তি মেলে?
এমন কিছু বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হবে "বিশ্বাসের বয়ান"।

-17%
Close

বিশ্বাসের যৌক্তিকতা – bishwaser zouktikota

120 100
0 out of 5

#বিশ্বাসের_যৌক্তিকতা বই থেকে কিছু অংশ:

"... কিন্তু তৎক্ষণাৎ আমার মাঝে সেই ভয়ঙ্কর সন্দেহ সবসময় মাথা চাড়া দিয়ে
উঠে (যে) মানব মানসের (mind) প্রত্যয়গুলো (convictions) যা কিনা নিম্ন
শ্রেণীর পশুর থেকে (বিবর্তিত হয়ে) বিকশিত হয়েছে তার আদৌ কি কোন মূল্য আছে
বা আদৌ কি (তা) নির্ভরযোগ্য? কেউ কি কোন বানরের মানসে আসা কোন প্রত্যয়কে
বিশ্বাস করবে, যদি এমন মানসে কোন প্রত্যয় (আদৌ) থেকে থাকে?"

- চার্লস রবার্ট ডারউইন [উইলিয়াম গ্রাহামের নিকট লেখা চিঠিতে]
.

বইটিতে নতুন আঙ্গিকে বিবর্তন সম্পর্কে পরিশিষ্ট যোগ করা হয়েছে। তথ্যসুত্রে
আছে বিভিন্ন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত সেক্যুলার
গবেষকদের গ্রন্থ, আন্তর্জাতিক পিয়ার রিভিউড জার্নালের রেফারেন্স। বাংলার
নাস্তিক সম্প্রদায়ের সদস্যের লিখা বইয়ের উদ্ধৃতিও বাদ যায় নি। অল্প কথায়
বললে, ছোট খাট বোম!

তবে, এ বিষয়ক লেখাগুলো মন দিয়ে পড়তে হবে।
গল্প পড়ব আর চোখ 3G স্পিডে চালিয়ে যাব লেখার উপর তাহলে খুব একটা লাভ হবে
না। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এর লেখক এই বিষয়ের উপর ইতিমধ্যেই জোড় দিয়েছেন।

-17%
Close

শনি সাহেব অসুস্থ – shoni saheb osustho

300 250
0 out of 5

গ্রন্থ 'শনি গ্রন্থেৱ খন্ডাংশ'

রানীক্ষেত রোগে আক্রান্ত ডিম পাড়া মুরগীর মতো প্রকাশ পাল চেয়ারে বসে ঝিমচ্ছেন ৷ মুখটা মেঘাছন্ন তার ৷ কিন্তু শ্রেণীকক্ষের প্রথম বেঞ্চে বসা শনি সাহেবের মুখে চাঁপা রহস্য লুকিয়ে আছে ৷ নাকের ডগা চুলকাতে চুলকাতে সে বলেই ফেললো
:—স্যার; ঘটনা তো একখান ঘটচ্ছে, শুনচ্ছেন নাকি !?
দেলোয়ার কপাল ও ভ্রু কুঁচকে বলে,
:—শনি, ঘটনা কি ঘটাইচ্ছে মোল্লায় !? এখুনি মসজিদ মাদ্রাসা বন্ধ করতে হইবো ৷ এখুনি সময় মসজিদ, মাদ্রাসা বন্ধ করার !!
শনি ভ্রু কপাল ভাঁজ করে ক্ষণকাল পর বলে,
:—হঠাৎ এখানে মোল্লার প্রসঙ্গ আসলো কেন ? মসজিদ মাদ্রাসা আবার কি করলো ? বন্ধই বা কেন করতে হবে ?
:—কী করছে মানে ! ঘটনা ঘটছে তুই কইলি ৷
:— হুঁম, ঘটনা ঘটছে ৷ কি ঘটনা শুনবা না আগে !?
:—আরে দোস্ত, শোনার কি আছে ! কোন ঘটনা ঘটলেই সেক্যুলার সমাজ যাচাই বাছাই ছাড়াই গলা ফাট্টাইয়া বলে 'এই কাম মোল্লা ছাড়া কেউ করে নাই' ৷ শুধু সেক্যুলার সমাজ তিনটা ঘটনা মোল্লাদের উপর এখনো চাঁপিয়ে দেয় নাই ৷ সেগুলো বন্যা, ঝড়, ভূমিকম্পন ৷
বাবুল ঝন করে উঠে কোমরে হাত দিয়ে বলে,
:—একদম চিন্তা করিস না তোরা ৷ সেক্যুলারদের যে হাড়ে চেতনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আগামী এক বছরের ভিতরেই বলবে বন্যা ও খরা মোল্লাদের জন্য হয় !!
আতিয়ার বিব্রত সুরে বলে ওঠে,
:—এটা আবার কোন যুক্তিক কথা ? আমার বুঝে আসে না ৷
মকুল বলে,
:—কেন ? কেন, তোর বুঝে আসে না ? নাক টিপলে মনে হয় দুধ পড়ে তোর !! বুঝলি, অবিশ্বাসের কিছু নাই ৷ মোল্লা বা মুসলিমরা প্রস্রাব করে পানি ব্যবহার করে ৷ করে কি করে না ?
:—করে ৷ পাক পবিত্র বলে কথা আছে !
:— সেক্যুলার সমাজের মানুষ গুলো পানি ব্যবহার করে না প্রস্রাব করে ৷
:—কি বলিস !! ওদের কাছে কি তাহলে পাক-পবিত্র বলে কিছু নাই ?
:—ক্যান, তোর কি নাক দিয়ে দুধ পড়ে এখনো ? বুঝলি আতিয়ার, এই ইস্যু ধরে একদিন সেক্যুলার সমাজ শাহবাগে গলা চড়াবে ৷ বলবে—পানির অতিরিক্ত ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, করতেই হবে ৷ অতিরিক্ত পানি ব্যবহারে বন্যা সৃষ্টি হয় ৷ প্রস্রাব করে মোল্লাদের পানি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, হবে না ৷ পশুদের পানি ব্যবহার করতে হয় না, মোল্লাদের করতে হবে কেন' ? এই যুক্তি আগামী দিনে দাঁড় করাবে ৷
প্রকাশ পাল দাঁউ দাঁউ করে এতক্ষণ জ্বলছিলেন ৷ হঠাৎ তার বিস্ফোরণে শ্রেণীকক্ষ স্তব্ধ ৷ শনি উঠে দাঁড়িয়ে আবার বলে,
:—স্যার; ঘটনা তো একখান ঘটছে, শুনচ্ছেন নাকি ?
কে যেন পিছন বেঞ্চ থেকে হঠাৎ বলে উঠে—ঘটনা কি মোল্লায় ঘটাইছে !?
প্রকাশ পাল চটে যায় খুব ৷ উত্তপ্ত কন্ঠে বলেন,
:—কে বললো, কে ? কে বললো রে ইভা ?
ইভা দাস বাইম মাছের মতো কচলাতে কচলাতে বলে,
:—শুনেছি কিন্তু দেখিনি, স্যার ৷
ধমকের কন্ঠে প্রকাশ পাল বলে,
:—ফাজলামির জায়গা এটা !?
বলেই সে উত্তপ্ত চোখে সব শিক্ষার্থীদের উপর একে একে চোখ বুলায় ৷ শনি মলিন মুখে বলে,
:—স্যার; ফেসবুকের প্রখ্যাত জ্ঞানী লেখক, বিজ্ঞানমনস্ক, মুক্তমনা মামুনুর রশিদ গ্রেফতার হয়েছেন !! উনার নাম শুনেনি এমন নাস্তিক দুই বাংলাতে নেই ৷ নাস্তিকদের 'জুনিয়র ব্রাদার' নামে খ্যাত উনি ৷ উনি ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোষ্ট করেছেন কাবা শরিফের উপর, তাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে ৷ ইভা দাস বলে উঠে,
:—শনি, উনার ছদ্মনাম মামুনুর রশিদ ৷ আসল নাম প্রভাষ পাল ৷ আমাদের স্যারের ছোট ভাই ৷ ঢাকাতে চাকরি করেন ৷
শনি সাহেবের চোখ প্রসস্থ হয়ে যায় মুহুর্তেই ৷ বলে,
:—কি আজগুবি কথা বলো, ইভা মণি !?
:—আজগুবি না শনি, যা সত্য তাই বলছি ৷
শনি সাহেব এবার প্রকাশ পালের দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে বলে,
:—স্যার, এতদিন শুনে আসচ্ছি আপনারা চার ভাই ৷ কিন্তু মামুনুর রশিদ যে আপনার ভাই তা তো শুনিনি আর বলেননি তো কোনদিন !!
প্রকাশ পাল রাগে ক্ষোপে ফুলে যাচ্ছেন বেলুনের মতো, তবুও ফাটচ্ছেন ৷ ইভা দাস বলে,
:—শনি, আমি কি বল্লাম বোঝনি ? স্যারের ছোট ভাই প্রভাষ পাল ছদ্মনামে ফেসবুক চালাতো ৷ উনারা চার ভাই-ই ৷
:—ওহ ! কিন্তু আমি যে তাকে একদিন ফেসবুকে 'এস এম এস' করল্লাম—"আপনি দিন রাত শুধু মুসলিমদের গুষ্ঠি উদ্ধার করেই যাচ্ছেন ৷ ইসলাম নিয়ে এত্ত অশীল মন্তব্য কেন করেন ? মিথ্যাচার করা ছাড়া কি মুক্তমনা হওয়া যায় না" ? তখন মামুনুর রশিদ আমাকে 'এস এ এস' করে —'মিথ্যাচার করে মৌল্লারা ৷ ধর্মের মিথ্যাচার উন্মুক্ত করতেই আমাদের আর্বিভাব ৷ মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করে জেনে শুনে এই পথে এসেছি' ৷ ইভামণি উনি কিন্তু আমার কাছে স্বীকার করেছিল তিনি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন ৷ মুক্তমনারা কখনো মিথ্যা বলে না ৷ বাবুল হঠাৎ কথা গাঢ় করে বলে,
:—কখনোই মিথ্যা বলে, মুক্তমনা নাস্তিকরা সত্যবাদী ৷ বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ কখনো মিথ্যা বলে না ৷ উনি বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতেই বলেছেন মুসলিম পরিবারে জন্মেছেন ৷
শনি আবার বলে,
:—স্যার, আপনার ছোট ভাইয়ের জন্ম কি মুসলিম পরিবারে ? আপনার ছোট ভাইয়ের বাবা কি মুসলিম ছিলেন ? প্রকাশ পাল যেন ট্যাপা মাছের মতো ফুলতে থাকে অবিরাম ৷ কিন্তু চুপ ৷ শনি বলে,
:—স্যার, রাগ করবেন না প্লীজ ৷ নাস্তিকগণ দাবি করে তারা বিজ্ঞানমনস্ক, মুক্তমনা ৷ তারা সত্য সন্ধানী ৷ মিথ্যাকে নির্ভুল করতে চায় ৷ সেই প্রেক্ষাপটে নাস্তিকদের 'জুনিয়র ব্রাদার' মামুনুর রশিদ ওরফে প্রভাষ পাল নিশ্চয় সত্যবাদী ৷ তিনি নিজে মুখে বলেছেন তিনি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছেন ৷ আমি কিছুতেই তাকে মিথ্যাবাদী বলতে পারবো না ৷ দেলোয়ার বলে,
:— অবশ্যই না ৷ মিথ্যাবাদী বললে মুক্তমনাদের অপমান করা হবে, বুঝলি ! বড় কথা হলো তারা বিজ্ঞানমনস্ক ৷ তাদের সব কথায় বিজ্ঞান নির্ভর ৷ নিঃসন্দেহে সে মুসলিম পরিবারের সন্তান ৷ তার বাবা নিশ্চয় মুসলিম ৷ বাবুল বলে উঠে,
:—আমার খটকা লাগছে ৷ আমাদের স্যারের ছোট ভাই সে ৷ সবাই জানি উনার বাবা অশোক পাল ৷ তিনি একজন হিন্দু ৷ কি করে স্যারের ভাই প্রভাষ পাল, মামুনুর রশিদ হয় !? আবার তার বাবা মুসলিম, মুসলিম ঘরে জন্ম ৷ আমার মাথায় ঢুকছে না কিচ্ছু, কিছুই ঢুকচ্ছে না ৷ জহিরুল বলে,
:—ওহে, চুপ করো হে ৷ ঢুকছে না, ঢুকছে না, না ঢুকলে বিজ্ঞানমনস্কদের কী আসে যায় ! বিবর্তনের জ্ঞান তোদের মাথায় আছে ? যদি উইপোকার বিবর্তনে ঈগল পাখি হয় আর প্রভাষ পাল বিবর্তনে মামুনুর রশিদ হবে না কেন হে !? বাবুল মরা মনে বলে,
:—তার পরেও আমার খটকা লাগছে, দোস্ত ৷ স্যারের ছোট ভাই প্রভাষ পাল হঠাৎ মামুনুর......৷
:—চুপ করো হে ! শত শত মহামান্য জ্ঞানী নাস্তিক পুরুষ, ফেসবুকে হিজড়া সেঁজে ফেক আইডি খুলে ইসলামের নামে অপপ্রচার চালায় তাতে দোষ নাই, সব দোষ বুঝি আমাদের স্যারের ভাইয়ের !? সে নাই একটু মুসলিম সেঁজে ইসলামের নামে মিথ্যাচার করেছে, তাতে কি অ্যাঁ !? বাবুল বলে উঠে,
:—তা বটে, তা বটে ! স্যার, আপনি বললে আমরা শাহবাগ গরম করে দেব ৷ সত্যবাদী বিজ্ঞানমনস্ক লেখককে গ্রেফতার মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় ৷ পুলিশ কি একটা কাম করছে !! মকুল বলে,
:—তোদের গরম করতে হবে না শাহবাগ ৷ গরম করার মালেরা আদা চা খেয়ে এতক্ষণ রেডি হয়ে গেছে ৷ শনি কপাল প্রসস্থ করে বলে,
:—চুপ কর তো ৷ স্যারের কিছু বলতে দাও ৷ প্রকাশ পাল এতক্ষণ যা শুনছিলেন তা না পারছিল হজম করতে না পারছিল বমি করে ফেলতে ৷ শেষ মেষ বলে,
:—আমার আর কি বলার আছে ! তুমিই তো সব নাটের গুরু ৷ আমার ভাই ভিন্ন নামে ফেসবুক খুলেছে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার ৷ কিন্তু মৌলবাদীদের অনুভূতিতে চোট লাগে বলে অবাক হই ! বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে মৌলবাদীরা এত্ত ভয় পায় !! শনি আমতা আমতা করে বলে,
:—চোট কতটুকু লেগেছে তা বলতে পারবো না কিন্তু নাস্তিকদের মুক্তমনা চিন্তা হিলাময় ভেদ করে ফেলেছে এটা বুঝতে পারচ্ছি ৷ মিথ্যাচার অপপ্রচার করতে গিয়ে নিজের নাম, বাপের নাম পর্যন্ত অস্বীকার করে ফেলেছে ৷ বিজ্ঞানমনস্ক হতে জন্মদাতা পিতাকে অস্বীকার করতে হয় জানতাম না, স্যার !!
প্রকাশ পাল চক ডাস্টার্র নিয়ে শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হতে হতে বলে' মৌলবাদীরা যে বিজ্ঞানমনস্কদের যমের মতো ভয় পায় !